প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 15, 2026 ইং
খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে

খুলনা প্রতিনিধি:
প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ, কৃষকদের হয়রানি।কৃষকদের অভিযোগে এমনটি বলা হয়েছে,খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।
সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের পরিবর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও মিলার মালিকের মাধ্যমে ধান ক্রয় করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী,সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নিতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি টনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মদদ রয়েছে। কৃষকরা অভিযোগে উল্লেখ করেন,গত সোমবার বিষয়টি নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে অসৌজন্য মূলক ও অশোভন আচরণ করেন।
কৃষকেরা এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখ বলে জনক মন্তব্য করেন। অভিযোগে আরও বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান খাদ্য গুদামে দেওয়ার জন্য প্রায় এক মাস ধরে ঘুরছি। এখনো আমাদের বস্তা দেওয়া হয়নি। অথচ ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের বলা হচ্ছে, বস্তা আসলে ধান নেওয়া হবে। এতে সাধারণ কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হলেও তালিকাভুক্ত অনেকের কাছে বর্তমানে ধান নেই। ফলে তাদের পরিবর্তে খাদ্য গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাই ধান কিনে কৃষকদের নামে সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সরবরাহ করতে পারছেন না, তাদের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে প্রকৃত ধান চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা ও কৃষকদের সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। অন্য দিকে সরকার ধান ক্রয় করছে অথচ টন প্রতি গুদামে বা লেবারদের ৬০০/৮০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানান গুদামের পাশে রাখা অনেক ধান চারা গজিয়েছে,গোপনে গোপনে টাকা খেয়ে ঐ ধান নেবে কিন্তু আমাদের ধান নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডুমুরিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধান নেওয়া হয় না। উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আজকের যায় যায় বেলা