ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন।
প্রতারণার শিকার ওই ব্যক্তি হলেন ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের মৃতঃ শামসুর রহমান শেখ এর ছেলে মোঃ নুর ইসলাম শেখ।
এলাকায় এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে পাওনা টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগী গত ১৩ জুলাই তারিখে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের মৃত আনছার গাজীর ছেলে মোঃ হুসাইন আহমদ ওরফে সুমন এর বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানার লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভালো বেতনের চাকরি ও সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে আফ্রিকা মহাদেশের মরিশাস পাঠানোর কথা বলে হুসাইন আহমদ ওরফে সুমন চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত কয়েক কিস্তিতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেন।
সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার পরে তাকে ভিসা দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে এজেন্সি অফিসে আটকে রেখে আরোও টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে প্রতারক হুসাইন আহমদ সুমন ভুক্তভোগী নুর ইসলামকে একটি ভূয়া ওয়ার্ক পারমিট দেন। ওয়ার্ক পারমিটের কপিটি পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটি জাল (নকল) । বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী নুর ইসলাম তাঁর টাকা ফেরত চান। এর পর থেকে নুর ইসলাম কে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিসও হয়।
ভুক্তভোগী নুর ইসলাম বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি ও বন্ধক রেখে এবং এনজিও থেকে সুদে টাকা নিয়ে তিনি সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন প্রতারক হুসাইন আহমদ সুমনকে এখন সুদের টাকা পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসারের খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী নুর ইসলাম আরোও বলেন, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। সুরাহা না হওয়ায় তিনি ডুমুরিয়া থানায় প্রতারক হুসাইন আহমদ ওরফে সুমন এর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে ভুক্তভোগী নুর ইসলাম বলেন, প্রতারক হুসাইন আহমদ সুমন টাকা নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে উল্টো আমার নামে মামলা করবেন বলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে গত ১৩ জুলাই ভুক্তভোগী নুর ইসলাম প্রতারক হুসাইন আহমদ সুমন এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম প্রতারক হুসাইন আহমদ সুমন কে থানায় আসার জন্য বললে তিনি থানায় আসেনী।
উল্টো হুসাইন আহমদ সুমন থানায় আসতে না চেয়ে ভূক্তভোগী নুর ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।