মোঃ সেলিম রেজা। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি, খুলনা।
ডুমুরিয়া উপজেলার ৯ নম্বর সাহস ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এক দরিদ্র কৃষকের গাছ জোরপূর্বক বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায় একই গ্রামের অধিবাসী মোঃ ওসিয়ার শেখের সঙ্গে তার প্রতিবেশীর সাথে একটি সিঁড়ির গাছ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই সিরিজ গাছটি উভয়পক্ষ নিজেদের বলে দাবি করত।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি নামধারী কিছু লোক সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। এদের মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ল্ড এর বিএনপি'র সভাপতি মশিউর রহমান অন্যতম। সে বিএনপি-র নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় থেকে সালিশ বিচারের নামে চাঁদাবাজি করে আসছে। ভুক্তভোগী মোঃ ওয়াসিয়ার শেখ জানান মশিউর রহমান তাকে আশ্বাস দেয় যে, যেহেতু দুই পক্ষই সুরেশ গাছটি দাবি করছে এমত অবস্থায় গাছটি বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাবে সে টাকাটা আমার কাছে জমা থাকবে জমি মাপ যোপ করে যে পক্ষ গাছ পাবে তাদেরকে টাকা দিয়ে দেয়া হবে।
কিন্তু স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দুই বছরের অধিক হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই গাছের কোন সুরহা হয়নি। এলাকার কয়েক জন ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ জানা যায় যে, কথিত সভাপতি মশিউর রহমান সালিশ বিচারের নামে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। তার এই খামখেয়ালী ওনার জন্য স্থানীয় বিএনপি'র নেতা কর্মীরা তাকে বয়কট করেছে। স্থানীয় বিএনপি'র নেতাকর্মী রা অভিযোগ করেছে যে, মশিউরের বিরুদ্ধে বিএনপি'র উচ্চ পদস্থ নেতাকর্মীদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ নেয় না। মশিউর রহমানের কাছে ওই গাছ বিক্রির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন গাছ বিক্রি করেছি ঠিক কিন্তু ওই টাকা আমার কাছে নাই। তিনি বলেন টাকা আছে আর এক নেতার কাছে। কোন নেতার কাছে আছে তার নাম বলতে চাই না।
বললে আমার পদ থাকবে না। মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এরকম অনেক অভিযোগ আছে। তিনি একটি মাদ্রাসার কোষাধক্ষ্য থাকাকালীন বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য সহযোগিতা এনে মাদ্রাসার ফান্ডে জমা ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে গ্রামে অনেক বার সালিশ বিচার বসেছে। কিন্তু এরপরও তিনি তার অপকর্ম থেকে বিরত নাই। এমত গ্রামবাসী মনে করে বিএনপি'র সভাপতি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হোক। তার অপকর্মের কথা বিবেচনা করে বিএনপি'র উচ্চপদস্থ নেতাকর্মী রা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সবাই মনে করে।