মোঃ ফয়সাল হোসেন, কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে অবহেলা ও চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত দৈনিক খুলনার খবর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে জ্বর ও খিঁচুনি নিয়ে আড়াই মাস বয়সী শিশু মুয়াজকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এ সময় দায়িত্বে থাকা এসএসিএমও আব্দুল্লাহ আল মামুন শিশুটিকে দেখেন। তবে শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রায় ৩০ মিনিট পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক ডা. তমালিকা খাতুন শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শিশুটির স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি খুলনার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এবং কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগের পাশাপাশি আগেও এ ধরনের অভিযোগ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও চিঠিতে বলা হয়।
এদিকে, শুধু অভিযুক্ত এসএসিএমও নয়, ঘটনার সময়সূচি অনুযায়ী জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা অন্য চিকিৎসকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, শিশু মুয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।