মোঃ সেলিম রেজা। ডুমুরিয়া, খুলনা।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার সহকরি কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) অমিত কুমার বিশ্বাস এর বিরূদ্ধে নামজারি মামলায় গড়িমসির অভিযোগপত্র জমা হয়েছে।
জানা যায়, ভুক্তভোগী মনজুর মোরশেদ খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে ডুমুরিয়ার এসিল্যান্ডের বিরূদ্ধে ১২/৭/২০২৬ তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উক্ত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী তার ক্রয়কৃত সম্পত্তির নামজারি করার জন্য গত ১৫/৪/২০২৬ ইং তারিখ অনলাইনে নিয়মকানুন মেনেই জমির নামাজরির জন্য আবেদন করেন।
আবেদন নং- ৮৭১১২১২। যাহার ডুমুরিয়া সহকারি ভূমি কমিশনার কার্যালয়ের মিউটেশন মামলা নং ১৬৫৭৭/২০২৫-২০২৬। অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ আবেদনের পর যথাক্রমে ইউনিয়ন নায়েব প্রতিবেদন দাখিল করেছেন এবং সে মোতাবেক গত ১৭/৫/২০২৬ তারিখ সহকারি কমিশনার ভূমি কর্তৃক চূড়ান্ত শুনানী হয়েছে। কিন্তু সেই থেকে অভিযোগের তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ আবেদনের প্রায় ৩ মাস গত হতে চলেছে এবং চূড়ান্ত শুনানীর পর হতে ২ মাস গত হতে চলছে, তারপরেও নামজারি আবেদনের কোন ফয়সালা হচ্ছিল না।
আবেদনের পর হতে এসিল্যান্ড অফিসের অলিখিত ডাকে কয়েক দফা সেই দপ্তরে হাজির হয়েছেন ভুক্তভোগী। কিন্তু বারেবার গড়িমসি ও ঘোরানো মূলক টেবিল চক্করে ফেলে হয়রানির জন্য ভুক্তভোগী খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি)’র কার্যালয়ে উক্ত অভিযোগটি করেছেন। জানা যায় অভিযোগটির ডিসি অফিসের স্মারক নং-৭৩৩, তাং- ১২/৭/২০২৬। উক্ত অভিযোগটি দায়েরের পর গত ১৩/৭/২০২৬ তারিখ ভুক্তভোগির নামজারি আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন ডুমুরিয়া এসিল্যান্ড। নামাজরি আবেদনটি নিয়ে গড়িমসি ও হয়রানির বিষয়ে অভিযোগের কথা জানতে পেরেই হয়তো এসি ল্যান্ড উক্ত নামাজরিটি জটিলতা এড়ানোর জন্যই মঞ্জুর করেছেন এমনটা অনেকে আলোচনা করছেন। এতে করে কিছু সংখ্যক আমজনতা এ ব্যাপারে ডিসির যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে এমনটি দাবি করছেন।
যার দরুন যথাদ্রুত নামজারি করার জন্য অর্থাৎ বাংলাদেশে সাধারণভাবে ই-নামজারি আবেদনের সর্বোচ্ছ ২৮ দিনের মধ্যে নিস্পত্তি করার জন্য সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। অথচ এখানে প্রায় ৩ মাস কলক্ষেপন করা হয়েছে এবং ডিসি’র দপ্তরে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সেই নামজারি আবেদনের দফারফা অর্থাৎ মঞ্জুর করা হয়েছে। সকল সাধারণ জনগণের হয়তো এরকম সকল দপ্তর নাও চেনা থাকতে পারে।
ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে গাড়ি, রিক্সা যোগে কয়েক ঘন্টা সময় ক্ষেপন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসাটা অনেকের পক্ষে দুরহ ব্যাপার। এ ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণসহ ভবিষ্যতে যাতে সাধারণ জনগনকে এরকম হয়রানির শিকার না হতে হয় সে ব্যাপারে নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।