নিজস্ব প্রতিবেদক, দিঘলিয়া (খুলনা):
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কার্যসহকারী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ তদারকিতে গাফিলতি এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই রেজাউল করিম টানা প্রায় ৯ বছর ধরে নিজ উপজেলা দিঘলিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে ফুলতলা উপজেলায় বদলির আদেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে সেই আদেশ কার্যকর হয়নি। পরে তিনি আগের মতোই দিঘলিয়া উপজেলায় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। কী কারণে বদলির আদেশ কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্ব পালন করলেও তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকল্পস্থলে সরেজমিনে না গিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ বুঝে নেন। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি এলাকায় একটি পরিবারের জন্য প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। ওই প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়মের পাশাপাশি রেজাউল করিম আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সেনহাটি ইউনিয়নের চন্দনীমহল এলাকায় চলমান ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণ ও ভাঙনরোধে পিলার নির্মাণকাজেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে স্থানীয়রা দাবি করেন, যেখানে ৬ ইঞ্চি বালুর স্তর দেওয়ার কথা, সেখানে মাত্র প্রায় ৩ ইঞ্চি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এবং এফ এম ৮ বালু দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হয়েছে ড্রেজারের নিম্নমানের বালু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রক্ষগাতী এলাকায় ১০ ফিট চওড়া ইটের সলিং এর রাস্তা নির্মান কাজে কোথাও ৭ ফিট চওড়া আবার কোথাও ৮ ফিট চওড়া ফলে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ভাঙনরোধে নির্মিত পিলারগুলোর ক্ষেত্রেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৭০টি পিলারের মধ্যে অনেকগুলোতে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি। পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া, রড, রিং ও কংক্রিটের মান নিম্ন হওয়ায় কিছু পিলার মাটিতে স্থাপনের আগেই ফেটে বা ভেঙে পড়ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা, কালভার্ট, সড়ক সংস্কার, সলিং, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নিম্নমানের ইট, বালু ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের পরিমাপে গরমিল, বিল উত্তোলনের আগে যথাযথ তদারকি না করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল করিমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পগুলোর কারিগরি মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।